বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ ১৩ই কার্তিক ১৪২৮
 
সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার গুরুত্ব ও ফজিলত
প্রকাশ: ০৩:২২ pm ২০-০৯-২০২১ হালনাগাদ: ০৩:৩৪ pm ২০-০৯-২০২১
 
 
 


রোজা আল্লাহর প্রিয় ইবাদত। রোজা আল্লাহ তাআলার জন্য রাখা হয়; আর রোজার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দিবেন বা রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই বলে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বছরে মানুষের জন্য দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনকে ফরজ করেছেন। যা আমরা রমজান মাসব্যাপী পালন করেছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়; আমি চাই রোজা অবস্থায় আমার আমল উপস্থাপিত হোক।’ (তিরমিজি)। মক্কা শরিফে এই আমল আজও বিদ্যমান রয়েছে। মসজিদুল হারামের দোতলায় প্রতি বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ৬টি ফজিলত উল্লেখ করা হলো- 

(১) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন : হাদিসে কুদসিতে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রোজা আমার এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।

(২) রাসূল (সা.) এর অনুসরণ : হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) সোমবার এবং বৃহস্পতিবারের রোজার অপেক্ষা করতেন। (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, নাসাঈ)

(৩) আল্লাহ তায়ালা বান্দা থেকে জাহান্নামকে ১০০ বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন : রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামকে তার থেকে ১০০ বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন। (আস সিলসিলাতুস সহিহাহ: খণ্ড-৬, হাদিস নম্বর: ২৫৬৫)

(৪) আল্লাহ তায়ালা বান্দা এবং জাহান্নামের মাঝে আসমান ও জমিনের দূরত্ব সমান খন্দক তৈরি করে রাখেন : রাসূল (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা তার এবং জাহান্নামের মাঝে আসমান ও জমিনের দূরত্ব সমপরিমাণ খন্দক তৈরি করে দেবেন। (আস সিলসিলাতুস সহিহাহ: খণ্ড-২, হাদিস নম্বর: ৫৬৩)

(৫) রোজা কেয়ামতের দিন বান্দার মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে : রাসূল (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন কেয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা আল্লাহ তায়ালাকে বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে আহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত রেখেছিলাম সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল কর। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে রেখেছিলাম, এজন্য তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল কর। রাসূল (সা.) বলেন, তখন উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। (আহমদ: খণ্ড-২, হাদিস নম্বর: ১৭৪)

(৬) কেয়ামতের দিন বাবুর রাইয়ান দিয়ে প্রবেশের সুযোগ লাভ করবে : রাসূল (সা.) বলেন, নিশ্চয় জান্নাতের রাইয়ান নামের একটি দরজা আছে, কেয়ামতের দিন সেখান দিয়ে রোজাদারা প্রবেশ করবে। (বুখারি: হাদিস নম্বর: ১৮৯৬, মুসলিম: হাদদি নম্বর: ১১৫২)রোজা অবস্থায় ইন্তেকাল করার সম্ভাবনা এবং জান্নাত লাভ : রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে রোজা অবস্থায় ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ আল জামে: হাদিস নম্বর: ৬২২৪)

আর সোম ও বৃহস্পতিবার যেহেতু বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পৌছানো হয়; তাই সপ্তাহে এ দুইদিন প্রিয় নবীর (সা.) অনুসরণে রোজা পালণেও আল্লাহর কাছে সুন্দর বিনিময় পাওয়া সম্ভব।রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও সোমবার রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 
 

আরও খবর

 
 
 
 
 
 
 
 
©newsofbd24.com